শিক্ষক কর্তৃক ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি : বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের কারণে শিক্ষক কর্তৃক রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ঢাকেবি) শিক্ষার্থীরা।
হেনস্তার শিকার হওয়া ছাত্রীর নাম রুহি। তিনি ঐ কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের ২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী। একইসাথে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল কর্তৃক এক শিক্ষার্থীকে গুম করার ঘটনারও প্রতিবাদ জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শহিদ মিনারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি কলেজের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে কলেজের মূল ফটকে এসে শেষ হয়। এসময় তারা, "শিক্ষকরা বুলিং করে, প্রশাসন কি করে; বদরুন্নেসায় বুলিং করে, প্রশাসন কি করে, সন্ত্রাসীরা হমলা করে, প্রশাসন কি করে" ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকেবির শিক্ষার্থী একরামুল হক জিহাদ বলেন,
বদরুন্নেসার শিক্ষার্থী রুহি ভিসি স্যারের কাছে ইংরেজি কারিকুলামে পড়াশোনা করানোর দাবি জানান। এই দাবি করায় সেখানকার কিছু শিক্ষক তাকে জোর করে ইংরেজিতে "মাইসেলফ প্যারাগ্রাফ" লিখতে বলেন এবং তাকে জোরপূর্বকভাবে সেই রচনাটা লিখানো হয়েছে। গতকালকে কেমিস্ট্রি ল্যাবের সামনে দিয়ে বান্ধবীরদের সাথে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে আবারো বুলিং করা হয়।
তিনি জানান, গতকালকে রাত সাত টার সময় সেই মেয়েটি বেশ কয়েকটা স্লিপিং পিল খেয়ে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে পরবর্তীতে তার তার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ সেলিম কর্তৃক সানি নামের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভিসি স্যার যেদিন তিতুমীর কলেজ যান সেদিন ঢাকেবির ২২- ২৩ সেশনের সানি নামের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে রাজউকের একটি পরিত্যাক্ত ভবনে আটকে রেখে মানষিক ও শারিরীক নির্যাতন করে এবং মাদক দিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব সজীব উদ্দিন বলেন, যারা ঢাকেবিতে আসছে তারা আমাদের সহযোদ্ধা। তারা ভেসে ভেসে আসে নাই, তারা সবাই বিপ্লবী। এই বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে একটা বিপ্লবের মাধ্যমে। রুহি যেই টিচারের মাধ্যমে বুলিং-এর স্বীকার হয়েছে তাকে আগামী ২৪ ঘন্টার ভিতরে বদরুনেসা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ছাত্রদল নতুন কায়দায় ক্যাম্পাস গুলোতে আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালু করেছে এবং অভিনব কৌশলে গুম করার প্রচেষ্টায় রয়েছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে বলছি, যদি ছাত্রদল এই ধরনের সন্ত্রাস, গুম ও মাদকের সাথে জড়িয়ে কোন স্টুডেন্টকে হয়রানি করে তাহলে এই সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে আমরা ক্যাম্পাস ছাড়া করব।
এসময় দোষীদের বিচারের দাবিতে তিন দফা দাবি পেশ করেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো:
১। শিক্ষার্থী হেনস্তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের ৩ দিনের মধ্যে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২। প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে
৩। ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার রাজনীতি বন্ধ করে অপসংস্কৃতি বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস