বিপিএল: ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত ক্রিকেটারসহ ৫ জনকে নিষিদ্ধ করলো বিসিবি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে দুর্নীতি, জুয়া (বেটিং) এবং তদন্তে অসহযোগিতার দায়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক, একজন ক্রিকেটার এবং দুইজন টিম ম্যানেজারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে বিপিএলের একাধিক আসরে দুর্নীতির দায়ে সামিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে বহিষ্কার করেছে বোর্ড।
অভিযুক্তদের তালিকা ও অপরাধের ধরণ
বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তরা হলেন:
- মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক): তদন্ত কর্মকর্তাদের কাজে অসহযোগিতা এবং তথ্যপ্রমাণ বা ডিজিটাল আলাপচারিতা মুছে ফেলে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
- অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার): এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে সরাসরি বিপিএল ম্যাচ নিয়ে জুয়া বা বেটিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
- রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার): ক্রিকেটের স্কোর বা ফলাফল নিয়ে বেটিং কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
- মো. লবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার): তদন্ত কর্মকর্তাদের তলবে সাড়া না দেওয়া এবং বিসিবির ডিমান্ড নোটিশের শর্ত ভঙ্গসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
- রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার): ক্রিকেটের স্কোর বা ফলাফল নিয়ে বেটিং কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত এই চার ব্যক্তিকে বর্তমানে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদের হাতে ১৪ দিন সময় রয়েছে।
সামিনুর রহমানের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার দায়ে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে 'এক্সক্লুশন অর্ডার' জারি করেছে বিসিবি। তদন্তে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম রয়্যালয়সের মালিকানার সাথে জড়িত এই ব্যক্তি খেলোয়াড় ও এজেন্টদের ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক জুয়াড়ি চক্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। সামিনুর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মেনে নিয়েছেন, ফলে তাকে বিসিবির সকল প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।