শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিতে আধুনিকায়ন নিয়ে আসা হবে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য সকল শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমে নিয়ে আসা। এটার জন্য যদি পরিবারকে আর্থিক প্রণোদনা দিতে হয়, কীভাবে সেটা সবচেয়ে কার্যকরী হতে পারে সেটা নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা আলোচনা শুরু করেছি। শিক্ষার্থীদের যে উপবৃত্তি আছে, সেখানেও আমরা মডারাইজেশন (আধুনিকায়ন) নিয়ে আসা হবে বলে জানান তিনি।’
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বাদশা ফয়সল ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বৃত্তি পরীক্ষার তৃতীয় দিন চলছে। আমরা দেখলাম খুব সুন্দরভাবে পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারছে কি না, সেটা আমরা দেখছি। আমাদের প্রত্যেকটা স্কুলকে, প্রত্যেকটা জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিসারদেরকেও সেই ইনস্ট্রাকশন দেওয়া আছে। যাতে তাদের প্রধান লক্ষ্যটা থাকে, যেন শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যে পরিবেশটা দরকার সেটা তারা পাচ্ছে কি না। এই পর্যন্ত আমাদের স্কুলগুলো, স্কুল কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, শিক্ষা অফিসারদের কর্মকাণ্ড—এগুলো নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’
বৃত্তি পরীক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা ইতোমধ্যে চার মাস ক্লাসও করেছে। এর মধ্যে তারা পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা দিচ্ছে— একজন সাংবাদিক এ বিষয়টা তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত বৃত্তি পরীক্ষা হলো শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের প্রতি এবং পরিবারদের উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া। আমরা বাদ দিতে চাই না। তার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যে পরীক্ষাটা দেওয়ার কথা ছিল, তারা কোনো কারণে দিতে পারেনি। সেটা আমরা চালু রেখেছি। আমরা পরীক্ষা নিয়ে নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা এই কথাটা শুনিনি। তবে অভিভাবকদের অনেকের কাছে এই কথাটা শুনেছি যে, ক্লাস সিক্সে এসে তারা ফাইভের পরীক্ষা দিচ্ছে। ক্লাস সিক্সে উঠে যদি ফাইভের অঙ্ক ভুলে যান, তাহলে আপনি আসলে ক্লাস সিক্সের অঙ্ক পারবেন না। আর দ্বিতীয়ত হলো, প্রত্যেকটা শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। তাহলে এই সমস্যাটা সবাই ফেস করেছে। সবাই যদি ফেস করে তাহলে সেটাও একটা ইকুয়াল গ্রাউন্ড (সমতা) তৈরি করে।
গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষা হলো উৎসাহিত করা। আমরা আগামী দিনগুলোতে এই বৃত্তি পরীক্ষার শিক্ষার্থী বাড়াতে চেষ্টা করব। বৃত্তির যে অ্যামাউন্ট আমরা দিচ্ছি, যে ফাইন্যান্সিয়াল ইনসেন্টিভটা আমরা দিচ্ছি সেটার সাইজ আমরা বাড়াব। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের পরিবারদের উৎসাহিত করতে। তারা যেন ক্লাসরুমে আসে। তারা যেন শিক্ষাক্রমের সাথে থাকে। এটার জন্য যা যা করণীয় আমরা সবকিছু করতে চেষ্টা করব। আমরা গার্ডিয়ানদের সাথেও কথা বলব।’
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস/আরএইচ