ঢাকা বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস
শিরোনাম
  • শিক্ষা
  • কিশোরীর উজ্জ্বল বছরগুলোতে পাঠকমহলে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ লেখিকা ফাতেমা আক্তার স্বর্ণা

কিশোরীর উজ্জ্বল বছরগুলোতে পাঠকমহলে জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ লেখিকা ফাতেমা আক্তার স্বর্ণা

'মুজিববর্ষে বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে'

নিজস্ব প্রতিবেদক : শব্দের জাদুতে পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করার স্বতন্ত্র ক্ষমতা নিয়ে ধীরে ধীরে বাংলা সাহিত্যের প্রজন্ম বদলানোর পথে এগোচ্ছে তরুণ লেখিকা ফাতেমা আক্তার স্বর্ণা। শৈশব থেকেই গল্প, কবিতা ও মানুষের অন্তরের রহস্য অন্বেষণ তাঁর লেখার মূল প্রেরণা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি ইতোমধ্যেই পাঠকমহলে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।

 

 

২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি খুলনায় নানার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন এই তরুণ লেখিকা , তবে হৃদয়ের গভীরে পৈতৃক নিবাস ফরিদপুরকে ভালোবাসার জেলা হিসেবে ধরে রেখেছেন। বর্তমানে তিনি ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী (২০২৫ প্রেক্ষাপটে)। অল্প বয়স থেকেই লেখালেখির প্রতি তার গভীর আগ্রহ ও নিষ্ঠা তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

 

শৈশব থেকেই গল্প ও শব্দের প্রতি টান ছিল তার। গ্রামের সরল জীবন, প্রকৃতির রঙিন দৃশ্য এবং মানুষের অজানা অনুভূতি থেকে তিনি অনুপ্রেরণা নিয়েছেন। তার লেখায় মিশে থাকে আবেগ, স্বপ্ন এবং এক ঝলক রূপকথার আলো।

 

পারিবারিক পরিবেশও তার সাহিত্যচর্চায় প্রভাবশালী। বাবা শহীদ খন্দকার, মা নাসিমা আক্তার, ছোট ভাই-বোন ও দাদুর স্নেহময় পরিমণ্ডল তাকে সাহস দিয়েছে।

 

লেখালেখির জগতে তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা হলো ভৌতিক উপন্যাস বাড়ৈ বিলের ধাঁধা (স্বরবর্ণ প্রকাশনী), এছাড়া তার অন্যান্য উপন্যাস ছোটসাহেব, টাইম নেক্সাস এবং রেডকোড পাঠকমহলে আলোচিত।

কবিতাতেও তিনি সমান সাবলীল; প্রকাশিত কবিতাগুচ্ছের মধ্যে রয়েছে অকথার ব্যাথা, হাসির স্রোতে এবং আমি ভাঙিনি।

 

 

লেখালেখির প্রতি আগ্রহ শুরুটা কীভাবে হলো — এমন প্রশ্নের জবাবে তরুণ লেখিকা ফাতেমা আক্তার স্বর্ণা বলেন, “একটা সময় ছিল যখন আমি কল্পনা করতাম আমার লেখা মানুষ পড়ছে এবং আমায় ভালোবাসছে, নিজের জীবনের সাথে মিল খুঁজে পাচ্ছে। তখন আমি চাইতাম, আমার শব্দগুলো কারও অন্ধকার মুহূর্তে সাহস হয়ে দাঁড়াক, জটিল প্রশ্নের ভিড়ে অন্তত একটি দিশা হয়ে দাঁড়াক । সেই কল্পনাগুলোই ধীরে ধীরে আমার লক্ষ্য হয়ে যায়।”

 

উপন্যাস ও কবিতা নিয়ে তিনি বলেন, “কবিতা অনুভূতির তাৎক্ষণিক প্রকাশ, কিন্তু উপন্যাসে আমি মানুষের ভেতরের দ্বন্দ্ব ও সম্পর্কের গভীরতা ফুটিয়ে তুলতে পারি। তাই নিজেকে সবচেয়ে বেশি খুঁজে পাই উপন্যাসে।”

 

লেখালেখি শখ না দায়িত্ব হিসাবে দেখেন এমন প্রশ্নে তিনি জানান, “এখন এটা আমার শখও, দায়িত্বও। শব্দের শক্তি সচেতনভাবে ব্যবহার করাটাই দায়বদ্ধতা।”

 

তরুণ পাঠকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “পড়ার অভ্যাস কখনও ছেড়ে দিও না। বই শুধু গল্প দেয় না, দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। জানতে, ভাবতে ও প্রশ্ন করতে শিখতে হবে।”

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “পাঁচ বছর পর লাখো পাঠকের হৃদয়ে নিজেকে স্বতন্ত্র কণ্ঠ হিসেবে দেখতে চাই। বাংলা সাহিত্যে আমার লক্ষ্য পাঠককে শুধু গল্প না পড়তে, নিজের ভেতরেও কিছু খুঁজে পেতে শেখানো।”

 

তিনি বিশ্বাস করেন, শব্দ শুধু সাজানোর জন্য নয়, সাহস, আলো ও দিশা দেয়ার জন্য। এই লক্ষ্যই তাকে নতুন প্রজন্মের সাহিত্যে স্বতন্ত্র কণ্ঠ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

 

 

 

 

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস