শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে গরমে মর্নিং ক্লাস চান ৯৩ শতাংশ

দেশজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। অতিরিক্ত মাত্রার গরমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কোথাও-কোথাও দুই-একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষক-অভিভাবকদের মর্নিং শিফটের স্কুল পরিচালনার দাবি জোরালো হচ্ছে। এরইমধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা বৈষম্য নিরসন ফোরাম। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের ৯৩ শতাংশ মানুষও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই গরমে মর্নিং ক্লাস চান।
দেশের শিক্ষাবিষয়ক পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাডটকমের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে জরিপে অংশ নেয়া ৬ শতাংশ মানুষ মর্নিং ক্লাস চান না। আর অবশিষ্ট ১ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে বিপক্ষে কোনো মতামত দেননি।
গত শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত দৈনিক শিক্ষাডটকমের ওয়েবসাইটে এই জরিপ চালানো হয়। দৈনিক শিক্ষাডটকম পরিচালিত এই জরিপে অংশ নিয়েছেন মোট দুই হাজার ৮৯৮ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন দুই হাজার ৬৮৫ জন এবং ‘না’ ভোট দিয়েছেন ১৮৮ জন। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো মন্তব্য করেননি ২৫ জন।
জরিপে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই গরমে মর্নিং ক্লাস চালুু করা উচিত বলে মনে করেন কি? জরিপে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ এর পাশাপাশি ‘মন্তব্য নেই’ নামে আরেকটি ঘর ছিলো।
প্রসঙ্গত, শিক্ষাবিদরাও মর্নিং শিফটের স্কুলের পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণ মানুষের সন্তানদের দুপুর বেলা গরম খাবার, বিশ্রাম এবং বিকেল বেলা খেলাধুলা তথা বিনোদনের সুযোগ নেই। অন্যদিকে, কিন্ডারগার্টেন, বেসরকারি ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখায় দুপুর ১২টা বা ২টার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুপুরের খাবার, বিশ্রাম ও খেলাধুলার সুযোগ পেয়ে থাকে। তাই সব শিশুর জন্য অভিন্ন শিশুবান্ধব সময়সূচি প্রণয়ন জরুরি।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস/ এমটি