হ্যাঁ-ভোটে দ্বিধা নয়, না চাইলে সেটা গোপন ষড়যন্ত্র: আসিফ মাহমুদ

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস ডেস্ক : সংস্কার ও গণভোটের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, কোনো দলের নেতা প্রকাশ্যে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে থাকলেও যদি কর্মীরা না ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালায়, তবে সেটি হবে গোপন বা গুপ্ত তৎপরতা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “নেতা হ্যাঁ ভোটের কথা বলছে, কিন্তু কর্মীরা না ভোট চাইছে—এটা দ্বিচারিতা। এখন যদি কর্মীরা না ভোট চায়, তাহলে তাদের সেটা গুপ্তভাবেই করতে হবে। প্রকাশ্যে না ভোট চাওয়াটাও এক ধরনের গুপ্ত কাজ।”
পথসভায় তিনি আরও বলেন, স্থানীয় মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুল্লাহ হায়দারের অনুরোধে এ এলাকায় সড়ক উন্নয়নের জন্য ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জনগণ যদি তাকে নির্বাচিত করে, তাহলে তিনি আরও বড় পরিসরে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকার গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা সরকারে গেলে ‘হিসাব দাও’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করব, যেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, উপদেষ্টা পদ ছাড়ার সময় তিনি সরকারি বাড়ি ও আসবাবপত্র রাষ্ট্রের কাছে ফেরত দিয়েছেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ তিন দিক থেকে একটি দেশের দ্বারা ঘেরা। প্রত্যাশা ছিল প্রতিবেশীসুলভ আচরণ, কিন্তু বাস্তবে আমাদের ছোট প্রতিবেশি হিসেবে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্য জোট সরকার গঠন করলে যুবকদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সামরিক বাহিনীর অধীনে প্রশিক্ষিত সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে।
তারেক রহমানের কৃষক ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, অতীতেও এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। এবারও একই কথা বলা হলে জনগণকে প্রশ্ন করতে হবে—কবে বাস্তবায়ন হবে?
পথসভায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের ১১ দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, তাঁর নেতাকর্মীরা যদি এক টাকাও চাঁদাবাজি করে, তবে তিনি জনগণের কাছে ভোট চাইবেন না। তিনি চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিনসহ বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস