২৪৯ জন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়: টিআইবি

অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ ও অর্থপাচার রোধে সরকারের ব্যাপক ঘটতি রয়েছে বলে টিআইবির গবেষণায় উঠে এসেছে।
টিআইবি বলছে ২৪৯ জন "হাই-প্রোফাইল" বা শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হলেও এর অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়।
সংস্কারের বিষয়ে জনমনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও সরকার ও দুদক সংস্কারে 'আশু করণীয়' পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে এবং সার্বিকভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে অন্যান্য প্রস্তাব বিষয়ে উদ্যোগ না নেওয়া, দুদকে দুর্নীতির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদের অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিতে কোনো উদ্যোগ না থাকা।
সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সমন্বয়ের অভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা মোকাবিলায় উপযুক্ত কৌশলের ঘাটতির কারণে পাচারকৃত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার যেভাবে অশাবাদী ঘোষণা দিয়েছিল তার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা।
অন্যদিকে কর ফাঁকি, বৃহৎ দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের পাশাপাশি সেবাখাতে ঘুষ আদায়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলা-বাণিজ্য, গ্রেফতার-বাণিজ্য, জামিন-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধেও কোনো দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়া।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জনগণের সামনে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি ও নীতিমালা করা হলেও এখন পর্যন্ত কারও আয় ও সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ না করা; সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নেওয়া হলেও তা যাচাই-বাছাইয়ের কোনো উদ্যোগ না থাকা এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য ব্যাহত।
আগের তুলনায় দুদকের কার্যক্রমে দৃশ্যমান সক্রিয়তা দেখা দিলেও পরিস্থিতির গুণগত উন্নয়ন এখনো না হওয়া।
দুদক এখনো সরকারের ও বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক প্রভাব থেকে মুক্ত হতে না পারা; মামলা দায়ের ও প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে এখনো পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে পুরনো ধারা বিদ্যমান ক্ষমতাসীন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ক্ষমতার বাইরে থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; অনেকক্ষেত্রে সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপের সহায়ক হিসেবে দুদকের ব্যবহৃত হওয়ার দৃষ্টান্ত।
একদিকে দুদক সংস্কার কমিশনের আশু করণীয় সুপারিশমালা সরকার বা দুদকের নিকট প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পাওয়া, অন্যদিকে অন্য কোনো অংশীজনকে সম্পৃক্ত না করে দুদক ও সরকারি আমলাতন্ত্রের একচ্ছত্র কর্তৃত্বে দুদকের পরিপূর্ণ স্বাধীনতার পাশাপাশি জবাবদিহির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া: যদিও প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক্ষেত্রে দুদকের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের যেমন কোনো দ্বিমত ছিলো না তেমনি জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রায় সকল রাজনৈতিক দলেরও নোট অফ ডিসেন্টহীন সম্মতি ছিল, যা সরকার বা দুদক কারোরই অজানা ছিল না।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস/ এমটি