ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস
  • ক্যাম্পাস
  • ‘ঢাকা কলেজের পুকুরে গোসল করলে এ প্লাস পাওয়া যায়’
সাজিদ আহমেদ

‘ঢাকা কলেজের পুকুরে গোসল করলে এ প্লাস পাওয়া যায়’

'মুজিববর্ষে বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে'
ঢাকা কলেজের পুকুরে গোসল করছেন শিক্ষার্থীরা/ ছবি: সাজিদ আহমেদ

রাজধানী ঢাকা দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠীর বাস এ শহরে। ফলে নিয়মিতই নেমে যাচ্ছে মাটির গভীরের পানির স্তর। ফলে, বুড়িগঙ্গার পরিশোধনকৃত পানিই যেন এখন সাধারণ মানুষের ভরসা। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়নে রাজধানীতে দ্রুতগতিতে কমছে জলাধার। ফলে এই তীব্র গরমে মানুষের হাসফাস অবস্থা। এমন, অবস্থা থেকে বাঁচতে রাজধানীর যে কয়টি পুকুরে মানুষ একটু প্রশান্তি খুঁজতে যায়, তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ঢাকা কলেজের কেন্দ্রীয় মাঠের পাশে থাকা মাঝারি সাইজের সবুজ পানির পুকুরটি।

পরিষ্কার স্বচ্ছ পানির এমন জলাধার ঢাকা শহরে দেখা পাওয়া যায়না। নিয়মিত পরিচর্যার ফলে এই পুকুরের পানি জীবাণু ও দূষণমুক্ত। ফলে, ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের পুকুরে শিক্ষার্থীরা তাদের সারাদিনের পড়াশোনা, ক্লাস এবং অন্যান্য কাজের ফাঁকে হৃদয়ের প্রশান্তি নিতে ছুটে আসে এই পুকুরে। কেউ গোসল করে আবার কেউ পুকুর পাড়ে বসে ঠান্ডা বাতাস গায়ে লাগায়। দর্শনার্থী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা উপভোগ করে পুকুরের সৌন্দর্য।

এমনকি, এই পুকুরে গোসল করলে নাকি এ প্লাস পাওয়া যায়, মজার ছলে এমন কথা বলছিলেন পুকুরে গোসল করতে আসা এক শিক্ষার্থী। তীব্র গরমে যখন জবুথবু অবস্থা সবার। এমন সময় এই পুকুরে আসা ঢাকা প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ঢাকাতে এত পরিষ্কার পানির স্থান একমাত্র ঢাকা কলেজে এসে পেয়েছি। আর অন্য কোথাও পাইনি। ঢাকায় প্রায় ৬-৭ বছর আছি। এখানে গ্রাম্য পরিবেশের প্রশান্তি পেয়েছি।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই সময় ইলেকট্রাসিটি থাকে না বাসার মধ্যে। বাসায় পড়তে পড়তে অনেক টায়ার্ড হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর আমরা সবাই পরিকল্পনা করলাম ঢাকা কলেজের পুকুরে আসব। সেখানে গিয়ে গোসল করবো। তিনি বলেন, গ্রামে অনেক অনেক পুকুর। ঢাকা-শহরে পুকুর কম।  ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের এই পুকুর অনেক পুরোনে। আমাদের যত সিনিয়র ভাই আছে তারা সকলেই এই পুকুরে গোসল করেছে।

আরিয়ান রানা সাদ নামের ঢাকা কলেজের ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা শহর আাসার পর ঢাকায় এমন একটা পুকুর পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ঢাকার অন্য কলেজে এমন পুকুর আর নেই। ক্যাম্পাসে হলের সামনে এমন একটা পুকুর থাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কম অনুভূত হয়। শিক্ষার্থীরা আরও বলছেন, ঢাকা শহরে এমন আরও কিছু জলাধার নির্মাণ করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ তার হ্রদয়কে একটু শান্ত করতে পারে। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনকে দৃষ্টি আকর্ষণের অনুরোধও জানান তারা।