ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ডিএনসিসি প্রশাসক এজাজের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস ডেস্ক : ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধানের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, তিনি এই আদেশ আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন।
তিনি বলেন, “আমার দিক থেকে আমরা কোনো ভুল বা অন্যায় করিনি। যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো।”
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীন মিরপুর-গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটন দখল, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি কর্পোরেশনের ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাতে দোকান বরাদ্দসহ একাধিক প্রকল্প ও কার্যক্রম।
আবেদনে আরও বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২২ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর ৮ বিধিসহ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারা অনুযায়ী অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য গত ২৯ জানুয়ারি তাকে দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি।
দুদক জানায়, বিশ্বস্ত সূত্রে তারা জানতে পেরেছে যে, মোহাম্মদ এজাজ দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশযাত্রা বন্ধ করা জরুরি বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পর গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার এক বছরের জন্য মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস