শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন এ জাতির আইকন: যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার

‘শহীদ ওসমান হাদি: আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশ অনুষ্ঠান ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন এ জাতির আইকন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্দান ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
আত-তারিক পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শহীদ ওসমান হাদির আন্দোলন ছিল সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক সুসংগঠিত প্রতিবাদ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা এবং ২০২৪ দ্বিতীয় স্বাধীনতা। একাত্তরে আমরা ভূখণ্ড ও পতাকা পেলেও পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি বলেই ৫৪ বছর পরও উচ্চারিত হয় দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা।
অনুষ্ঠানে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, গত ১৫ বছরে ভারতীয় আধিপত্যবাদের কবলে পড়ে এই জাতির সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিকে জাগিয়ে তুলতে একটি শক্তিশালী আইকনের প্রয়োজন ছিল, আর সেই আইকন হলেন শরীফ ওসমান হাদী। তাঁর মতে, ওসমান হাদির আন্দোলন ছিল পোস্ট-মডার্ন কলোনিয়ালিজমের একটি স্পষ্ট প্যাটার্ন।
সেমিনারে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে ও এম তারিক হাসিব-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডাকটিকিট সম্পাদক কবি মুন্সী বোরহান মাহমুদ।বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, কবি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জাকির আবু জাফর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী, প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারদিয়া মমতাজ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক মাহবুব মুকুল, শহীদ ওসমান হাদির বড়ভাই ওমর বিন হাদি এবং কাঠপেন্সিল সম্পাদক সীমান্ত আকরামসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করেন সওগাত টিম, শিল্পী আমিরুল মোমেনীন মানিক, আজহারুল ইসলাম রনি, তাওহীদুল ইসলাম ও এম সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস / ওডি