‘এখন আপনাদের মতোই সাধারণ পাসপোর্ট’—কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে বললেন অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য উপদেষ্টারাও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এখন সবাইকে নতুন করে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমি আমার পাসপোর্ট জমা দিয়েছি। এখন আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। খুব জরুরি কিছু না হলে সাধারণত কোনো বৈঠকেও যাই না।” তিনি জানান, শুধু তিনি নন—নিয়ম অনুযায়ী অনেক উপদেষ্টাই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীও কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। “উনি খুব একটা ভ্রমণ করেন না, তারপরও নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে,” বলেন অর্থ উপদেষ্টা। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে রসিকতা করে তিনি বলেন, এখন তাকে “আপনাদের মতো সাধারণ পাসপোর্ট নিয়েই চলাফেরা করতে হবে।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রসঙ্গে—সাধারণ পাসপোর্টে ভিসা নেওয়ার সুবিধার জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তার ভিসা নিয়ে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। ভিসা পাওয়া নিয়ে তার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের তিন দিন আগে একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটন ডিসিতে যাচ্ছে—মেয়াদের শেষ সময়ে এসে কেন এ ধরনের চুক্তি করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি আগামী নির্বাচিত সরকারের ওপর কোনো চাপ তৈরি করবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, এসব আলোচনায় তিনি যুক্ত নন, তাই তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করার অর্থ নেই।
রাজস্বনীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে প্রায় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে ব্যবসা বণ্টনের বিধিমালা ও জনবল পরিকল্পনার কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই সরকারের আমলেই বিষয়টি বাস্তবায়ন হবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়েই এটি বাস্তবায়িত হবে। এখন কেবল সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার বিষয়টি বাকি রয়েছে। এজন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।
সচিবদের সংগঠন থেকে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চান না। তবে কোনো বাধা এলে তা মোকাবিলা করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, এটি একটি যুক্তিসংগত সংস্কার উদ্যোগ এবং দেশের রাজস্ব আদায় ও নীতিনির্ধারণে বাস্তব উন্নতির জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস