জামায়াত ইসলামীর পলিসি ডিবেট নিয়ে যা বলল বিএনপি

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস ডেস্ক : নির্বাচনের ঠিক শেষ মুহূর্তে পলিসি ডিবেটের আহ্বানকে বাস্তব রাজনীতির চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় থাকার কৌশল হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এই উদ্যোগকে ‘চটকদার’ আখ্যা দিয়ে এর উদ্দেশ্য ও সময় নির্বাচন—দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমিন।
ফেসবুকে দেওয়া একাধিক মন্তব্যে মাহাদী আমিন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার মাত্র দুই–তিন দিন আগে এমন একটি আহ্বান জানানো এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ট্যাগ করা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কৌশল হতে পারে। তার ভাষায়, বিষয়টি যতটা আলোচনাকেন্দ্রিক, বাস্তব রাজনৈতিক প্রস্তুতির সঙ্গে তার সম্পর্ক ততটা নয়।
পলিসি ডিবেটে বিএনপির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামীকাল ও পরশুর নির্বাচনী কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যস্ত। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে কোনো ডিবেট আয়োজন বাস্তবসম্মত কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘ প্রচারণার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে হঠাৎ এমন আহ্বানের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী।
মাহাদী আমিন আরও বলেন, বিএনপির নীতিগত অবস্থান নতুন বা হুট করে তৈরি হয়নি। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিক প্রতিফলন রয়েছে দলের নির্বাচনী ইশতেহারে। ফ্যাসিবাদের পতনের পরও তারেক রহমানের বক্তব্যে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কথা উঠে এসেছে। অথচ কোনো ধারাবাহিক আলোচনা বা নীতিগত বিতর্ক ছাড়া হঠাৎ পলিসি ডিবেটের দাবি তোলা অপ্রাসঙ্গিক।
জামায়াতের নীতিগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গত দেড় বছর তো বটেই, তার আগের ১৬–১৭ বছরেও জামায়াতের আমির কোনো সুস্পষ্ট ও লিখিত পলিসি উপস্থাপন করেছেন—এমন নজির তার চোখে পড়েনি। অন্যদিকে বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৩০’, তারেক রহমানের ঘোষিত ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
এ সময় জামায়াত আমিরের বক্তব্যে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে মাহাদী আমিন বলেন, নারী ইস্যুতে তার কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেখা যাচ্ছে, যা আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে স্পষ্ট হয়, তিনি চাপের মধ্যেই অবস্থান নিচ্ছেন।
নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ভোটের সিল উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির স্বীকারোক্তি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। জাল ভোট ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করেন তিনি।
এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে জাল ভোট দেওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরে মাহাদী আমিন বলেন, আইন অনুযায়ী ভোটার শনাক্তকরণের সময় মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করা জরুরি। অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর তথ্যও বিএনপির হাতে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস