এক নজরে গণভোট; 'হ্যাঁ' নাকি 'না'

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে, এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে কিছুটা ব্যাতিক্রমী। কারণ একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংসদ নির্বাচনের ভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট
গণভোট কি?
গণভোট এক ধরনের ভোট বা নির্বাচন যেখানে কোনো প্রার্থী নেই। গণভোটে ভোট দিতে হয় কিছু প্রস্তাবের পক্ষে অথবা বিপক্ষে "হ্যাঁ" অথবা "না" ভোট প্রদানের মাধ্যমে।
আসন্ন গণভোট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা এবং জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আসন্ন গণভোট গুরুত্বপূর্ণ।
গণভোটে 'হ্যা' নাকি 'না'?
গণভোটের দিন চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দিয়ে জনগণ মতামত জানাবেন। প্রশ্নটি হবে এ রকম: 'আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার-সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?'
ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট 'হ্যাঁ' সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
জুলাই সনদ কি?
জুলাই সনদ হলো ১৭ অক্টোবর ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্যের একটি রাজনৈতিক দলিল যা মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোর গুণগত পরিবর্তনের একটি রূপরেখা। এই সনদে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ ধারা রয়েছে।
গণভোট দিবেন যেভাবে
ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হলে দুটো ব্যালট প্রদান করা হবে যার একটি সাদা অন্যটি গোলাপী। সাদা ব্যালট এমপি প্রার্থীদের ভোট দেয়া জন্য। আর গোলাপী ব্যালটি গনভোটের জন্য। দু'টি ব্যালটে আলাদা সীল মেরে একই বাক্সে রাখতে হবে।
এমপি প্রার্থীদের ভোট দেবেন তার প্রতীক মার্কায় সীল মেরে। আর গণভোটের ব্যালটে সীল দেবেন "হ্যাঁ" অথবা "না" এর ওপর।
এছাড়া, আপনি Postal Vote BD এপসটি Google Play Store/App store থেকে ডাউনলোড করে পোস্টাল ভোটের জন্য রেজিস্ট্রেশন নিবন্ধন করতে পারবেন। Postal Vote BD এপসটির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করলে আপনার ঠিকানায় ডাকের মাধ্যমে ব্যালট ও ভোটপ্রদানের নির্দেশনা পৌছে দেয়া হবে।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস/ এমটি