ঢাকা শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস
  • আন্তর্জাতিক
  • অবৈধ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ভারতের উত্তর-পূর্বে নিহত অন্তত ১৮

অবৈধ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ভারতের উত্তর-পূর্বে নিহত অন্তত ১৮

'মুজিববর্ষে বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে'

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস আন্তর্জাতিক : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবৈধ খননের ভয়াল বাস্তবতা আবারও রক্তাক্ত হলো। অনুমোদনহীন কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও খনিটির ভেতরে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার সময় খনির ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মনিষ কুমারের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা যৌথভাবে নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি অবৈধ ‘র‌্যাট-হোল’ কয়লা খনি। এসব খনিতে সরু ও গভীর টানেলের মাধ্যমে শ্রমিকরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কয়লা ও অন্যান্য খনিজ উত্তোলন করে থাকেন।

জেলা পুলিশপ্রধান বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডিনামাইট বিস্ফোরণের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন,“শ্রমিকরা হয় আগুনে দগ্ধ হয়ে অথবা বিষাক্ত গ্যাস ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু ভেতরে ঠিক কতজন ছিলেন এবং কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে—এমন কোনো প্রত্যক্ষদর্শী এখনও পাওয়া যায়নি।”

এ ঘটনায় অবৈধ খননের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কংরাড সাংমা। তিনি দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের পরিবারকে দুই লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অনুমোদনহীন কয়লা খনি থেকে অবৈধ উত্তোলন একটি সাধারণ চিত্র। এসব খনিতে কাজ করা শ্রমিকরা দৈনিক মাত্র ১৮ থেকে ২৪ ডলার আয় করেন, অথচ প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হন।

উল্লেখ্য, পানিদূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে মেঘালয়ে ২০১৪ সাল থেকেই ‘র‌্যাট-হোল’ খনিতে খনন কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তবুও ২০১৮ সালে একই ধরনের এক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।

 

 

 

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস