লোককথা ও অতিপ্রাকৃতের মিশেলে তরুণ লেখিকার প্রথম উপন্যাস ‘বাড়ৈ বিলের ধাঁধা’

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাধারণ মানুষের জানার শেষ সীমা যেখানে থেমে যায়, সেখান থেকেই শুরু হয় রহস্যের পথচলা। এমন এক অতিপ্রাকৃত ও রোমাঞ্চকর কাহিনি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে তরুণ লেখক ফাতেমা আক্তার স্বর্ণার নতুন উপন্যাস “বাড়ৈ বিলের ধাঁধা ”।
উপন্যাসটির কেন্দ্রে রয়েছে স্নেহা নামের এক সাহসী তরুণী। গভীর রাতে, যখন চারপাশ নিস্তব্ধ ঠিক সেই লগ্নেই তার চোখে পড়ে এক রহস্যময় নীল আলো। চেনা, শান্ত ও অতিপরিচিত বিলটি মুহূর্তেই রূপ নেয় ভয়ংকর এক মৃত্যুপুরিতে। সেখান থেকেই শুরু হয় পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া ধনসম্পদ উদ্ধারের অভিযাত্রা।
কিন্তু এই যাত্রা মোটেও সহজ নয়। জীবন্ত আত্মাদের সমাহার, হারিয়ে যাওয়া পরিবারের মায়াবী উপস্থিতি, দাদিমার ছদ্মবেশে বিভ্রান্তির জাল প্রতিটি ধাপে স্নেহাকে লড়তে হয় ভয় ও প্রলোভনের বিরুদ্ধে। তার একমাত্র সঙ্গী কিশোর সে কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ত থাকবে, নাকি ধনসম্পদের লোভে পথভ্রষ্ট করবে স্নেহাকে?
উপন্যাসটি কেবল ধনসম্পদের অনুসন্ধান নয়; এটি মায়া ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব, সাহস ও সংশয়ের সংঘর্ষ, এবং আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধানের গল্প। লেখক রহস্যময় পরিবেশ নির্মাণে ব্যবহার করেছেন প্রকৃতি, লোককথা ও অতিপ্রাকৃত উপাদানের অনন্য মিশেল।
এই উপন্যাসে রয়েছে বাস্তবের ছোঁয়া বলে জানান তরুণ লেখিকা ফাতেমা আক্তার স্বর্ণা জানান। তিনি বলেন , " উপন্যাসটির মূল অনুপ্রেরণা এসেছে বাস্তব একটি স্থান থেকে। বাড়ৈ বিল নামের একটি বিল বাস্তবেই আছে। বিলের কোল ঘেঁষেই আমার বাড়ি। রাতের অন্ধকারে যেমন মনোরম দৃশ্য দেখা যায়, তেমনি বড়দের জিনের গল্পে কল্পিত এক ভয় সবসময় মনে বাসা বাঁধতো। সেখান থেকেই প্রধানত ‘বাড়ৈ বিলের ধাঁধা’ উপন্যাসের জন্ম।”
নীল আলো ও মৃত্যুপুরির ধারণা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “নীল রং আমার খুব প্রিয়। এই রংয়ের মধ্যে এক ধরনের কোমলতা আছে। কিন্তু রাতের বেলায় বিলের মধ্যে এমন কোমল আলো পরিবেশকে আরও ভয়ংকর করে তুলতে পারে। ‘মৃত্যুপুরি’ পুরোপুরি কাল্পনিক পাঠক যেন ভয় ও উত্তেজনায় গল্পে আরও ডুবে যেতে পারেন, সেটাই চেয়েছি।”
"স্নেহা চরিত্রটি নিয়েও রয়েছে ব্যক্তিগত সংযোগ আমার কাকাতো বোনের নাম মদিনা আক্তার স্নেহা। তবে গল্পের স্নেহার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বাস্তবে সে খুব ভীতু," বলেন লেখিকা ফাতেমা আক্তার ।
অন্যদিকে কিশোর চরিত্রের রহস্যময়তা ইচ্ছাকৃত বলেই জানান লেখিকা স্বর্ণা। তিনি বলেন, “চরিত্রটির রহস্যময়তা গল্পের ভয়, অনিশ্চয়তা ও অজানার অনুভূতিকে জীবিত রাখবে—এটা ভেবেই তাকে এভাবে নির্মাণ করেছি।”
উপন্যাসটি শুধু ধন অনুসন্ধানের গল্প নয়; এটি সাহসের সাথে ভয় এবং বিশ্বাসের সাথে প্রলোভনের লড়াই। পাঠকের জন্য বইটির মূল বার্তা প্রসঙ্গে লেখিকা বলেন, “জীবনে যত বাধাই আসুক, মনের জোর থাকলে তা পার হওয়া সম্ভব। আর ভীতু হলে ছোট সমস্যাও গভীর হয়ে ওঠে।”
প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি সম্পর্কে তার ভাষায়, “এটা এতটাই দারুণ যে বলার অপেক্ষা রাখে না। এই বই-ই আমাকে প্রথম একজন লেখিকা হিসেবে পরিচিত করেছে। অনুভূতিটা পুরোপুরি আবেগে ভরা।”
চেনা বিলের নীল আলো আসলে কী ইঙ্গিত দেয় ভয়, নাকি মুক্তি? স্নেহা কি পারবে মায়া ও প্রলোভনের জাল ছিন্ন করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই পাঠককে ডুব দিতে হবে "বাড়ৈ বিলের ধাঁধা" নামক উপন্যাসের পাতায়।
বইয়ের পাতায় নীল আলো ঝলমল করার আগেই চাইলে ছুঁয়ে দেখতে পারেন সেই রহস্যের দরজা। অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর প্রাণচঞ্চল প্রাঙ্গণে, স্বরবর্ণ প্রকাশনীর ৪০৮ নম্বর স্টলে অপেক্ষা করছে "বাড়ৈ বিলের ধাঁধা"। মেলার ভিড়, বইয়ের ঘ্রাণ আর কৌতূহলী পাঠকের পদচারণার মাঝেই মিলবে অতিপ্রাকৃত সেই জগতের চাবিকাঠি। সাহস থাকলে ঢুঁ মেরে আসুন—হয়তো নীল আলোর রহস্য আপনার হাতেই উন্মোচিত হবে।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস