‘অনলাইন শিক্ষা সংবাদ’-এর প্রতিবেদনকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি, প্রতিবাদ জানালেন মামুন

‘অনলাইন শিক্ষা সংবাদ’ পোর্টালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-মামুন।
গত ৪ মে ‘ইইডির ডিডি হচ্ছেন শিক্ষা ভবনের মিছিলের আয়োজক মামুন, আবেদনে এত সুপারিশ’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবাদলিপিতে ওই প্রতিবেদনে তাকে শিক্ষা ভবনে একটি মিছিলের আয়োজক হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন। ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কলা অনুষদের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি ওই সময়ের এবং পরবর্তী সময়ের সংগঠনের নেতাকর্মীদের জানা রয়েছে। প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের একজন ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর আন্দোলনের সময় তার পোস্টিং শিক্ষা ভবনে ছিল না; তিনি তখন নড়াইলে কর্মরত ছিলেন। ফলে ওই সময়ে শিক্ষা ভবনে কোনো মিছিলের আয়োজক বা সংগঠক হিসেবে তার সম্পৃক্ত থাকার যে অভিযোগ প্রতিবেদনে করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিবাদলিপিতে মামুন বলেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার একটি মহাসমাবেশে যোগ দিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর সঙ্গে তিনি ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনে রওনা হন। পথে গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি ওই ঘটনায় হামলা প্রতিরোধে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।
মামুনের দাবি, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পাতানো নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করা হয়। তৎকালীন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর পরই তাকে নড়াইলে বদলি করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ মার্চ তাকে লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই কলেজেই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরদিন ৬ আগস্ট শিক্ষা ভবনে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও তিনি অংশ নেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মামুন। তিনি বলেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে শিক্ষা ভবনে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো মিছিল আয়োজন বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
মামুন বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।