সালাহউদ্দিন আহমদের আসনে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত ৩

দিনের ক্যাম্পাস :কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহে থাকা অন্তত তিন সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে চকরিয়া পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আর রায়েদ মাদ্রাসার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন—দ্য এশিয়ান এইজের বশির আল মামুন, দৈনিক ডেসটিনির এসএম রুহুল কাদের এবং দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং সেলাই দিতে হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সমর্থকরা অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় জামায়াত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের গাড়িবহর ও সঙ্গে থাকা সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল অতিক্রম করলে পেছন থেকে হামলা চালানো হয়। প্রার্থী অক্ষত থাকলেও সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দিতে দিতে সাংবাদিকদের মারধর করে।
সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি সমর্থক নেজাম উদ্দিনকে তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন, তবে তার পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, এই আসনে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস