ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম। বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টায় ঢাকা কলেজের ডিপার্টমেন্টভিত্তিক এ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
প্রোগ্রামটি কলেজগুলোর ডিপার্টমেন্টভিত্তিক পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সে কারণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও আবেগ ও আনন্দের ঘাটতি ছিল না। বরং দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বছরের প্রথম দিনেই নতুন যাত্রার সূচনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উচ্ছ্বাস, হাসি আর স্বস্তির অনুভূতি। পরিচয়পর্ব, সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আনন্দ উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো, যা পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়।
অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে ঢাকা কলেজ ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী নাসির বলেন, “আজকে আমাদের অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ছিল। প্রথম দিনের অনুভূতি হিসেবে বলতে পারি, অনুভূতিটা ভালোই লেগেছে। সবাই মিলে পরিচয়পর্ব হয়েছে, পরিবেশও ছিল স্বাভাবিক ও ইতিবাচক। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো অনেক জল্পনা-কল্পনা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে আমাদের ক্লাস শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আজকের ক্লাসে শিক্ষার্থীদের রুটিন দেওয়া হয়েছে, সিলেবাস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত ক্লাস কবে থেকে শুরু হবে, সেটাও জানানো হয়েছে। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে।"
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের বিষয়টি শুরু থেকেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কাঠামোগত প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা-পূরণের ব্যবধানকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন, উদ্বেগ এমনকি ক্ষোভও তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেশন জট কাটবে কি না এসব বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব ছিল দীর্ঘদিন।
নাসির বলেন, “ক্ষোভের জায়গাটা এখন আর নেই। আগে হয়তো কিছু বিষয়ে আমাদের দাবি আর শিক্ষকদের অবস্থানের মধ্যে মিল ছিল না, সে কারণে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে এখন আমরা সবাই একসঙ্গে সামনে এগোতে চাই।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ক অতীতেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, “শুরুতে কিছু জায়গায় প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মধ্যে সামান্য ঘাটতি ছিল। তবে এখন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ সামনে আর কোনো বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আমরা আশা করছি।
ফার্স্ট ইয়ার পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বর মাস থেকে। সে হিসেবে বর্তমানে হাতে প্রায় আট মাস সময় রয়েছে, যা সিলেবাস সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট বলে প্রশাসন মনে করছেন।"
রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে নিয়ে গঠিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বাস্তবে স্বতন্ত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেই যাত্রা শুরু করবে। সাত কলেজকে সরাসরি অধিভুক্ত করা হবে না; বরং কলেজগুলো আলাদাভাবে চলবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত (অ্যাটাচড) থাকবে। সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নিজস্ব ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী ভর্তি করার সুযোগ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুতে ভাড়া ভবনে চলবে, এ জন্য ধানমন্ডি এলাকায় ভবন ভাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশ জারির পর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে সাত কলেজের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষা, ফল প্রকাশ, সনদ প্রদান ও ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনেই পরিচালিত হবে। পাঁচটি কলেজে বিদ্যমান উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম আগের মতোই বহাল থাকবে।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস/ ওডি