ভোটযাত্রায় ঈদের ঢল: বাস–ট্রেন সংকটে রাজধানী ছাড়ছেন লাখো মানুষ, ভাড়ায় নৈরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোট দিতে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন লাখো মানুষ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নেমেছে ঈদযাত্রার মতো ভিড়। বাস রিকুইজিশন ও যানসংকটে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা, আর সুযোগে কোথাও কোথাও নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া।
নির্বাচন উপলক্ষে তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ছিল শেষ কর্মদিবস। দুপুর গড়াতেই মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালে বাড়তে থাকে যাত্রীর চাপ।
মহাখালীতে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দেখা যায়, ইউনাইটেড ও বিলাস পরিবহনের কাউন্টারের সামনে কয়েক হাজার মানুষ টিকিটের অপেক্ষায়। কেউ কেউ আট ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন। কাউন্টার থেকে মাইকে বারবার দুঃখ প্রকাশ করে জানানো হয় যানজট ও প্রশাসনিক রিকুইজিশনের কারণে পর্যাপ্ত বাস নেই।
ঘোষণায় আরও বলা হয়, অধিকাংশ বাস নির্বাচনী দায়িত্বে নেওয়া হয়েছে। ফলে যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে নিতে অনুরোধ করা
বাস সংকটের সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটগামী একটি বাসে ৩২০ টাকার ভাড়া ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়, তাও দাঁড়িয়ে যাওয়ার শর্তে। অনেকেই দৌড়ে বাসে উঠলেও আসন পাননি।
শামীম ইসলাম নামে এক যাত্রী জানান, “দাঁড়িয়েই যেতে রাজি ছিলাম, কিন্তু বাসে পা রাখার জায়গা নেই। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যাওয়া অসম্ভব।”
গাবতলী টার্মিনালেও একই চিত্র। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে কয়েকটি পরিবহনকে জরিমানা করেছে। মানিকগঞ্জগামী একটি বাসে ১৮৮ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা নেওয়ায় ৫০ হাজার টাকা এবং জলঢাকাগামী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ট্রেনে ভাড়া বাড়ানো না হলেও যাত্রীচাপ তীব্র। সোমবার রাত থেকেই কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়।
মঙ্গলবার দুপুরে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আসন তো দূরের কথা, দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না। অনেক যাত্রী ছাদে উঠেছেন। রেল নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দিলেও তা কার্যকর হয়নি।
জামালপুরগামী ট্রেনে মাত্র ১০ মিনিটে টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। রুহুল আমিন নামে এক যাত্রী বলেন, “ভোটার হওয়ার পর কখনও ভোট দিতে পারিনি। এবার প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছি। কিন্তু টিকিটই পেলাম না।”
মাহমুদ আলম নামে এক তরুণ জানান, তিনি এবার প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন। “২০১৩ সালে ভোটার হয়েছি, কিন্তু কখনও ভোট দেওয়া হয়নি। এবার সুযোগ পেয়েছি, তাই বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু ছয় ঘণ্টা ধরে বসে আছি, বাস নেই,” বলেন তিনি।
অনেক যাত্রীর কণ্ঠে ছিল একই কথা—সরকার ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেও গ্রামে ফেরার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবীর খান ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“এত মানুষ গ্রামে যাবেন, তা ধারণা ছিল না। ঈদের মতো চাপ হবে ভাবিনি। প্রস্তুতি ঘাটতি ছিল। এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছি। রিকুইজিশন করা বাসগুলো নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনে দেওয়া যায় কিনা, তা দেখছি। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস