সিদ্ধিরগঞ্জ কেন্দ্রের ব্যালট প্রস্তুতি নিয়ে অভিযোগ, অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জের ধনকুণ্ডা পপুলার হাইস্কুল কেন্দ্র-২–কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আগাম ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ উঠেছে। তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ছিল নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতির নিয়মিত কার্যক্রম, গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়, সিদ্ধিরগঞ্জ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রটিতে ভোটের আগেই ব্যালট বক্স ও ব্যালট পেপার প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসার মো. বশিরুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং অফিসার শাহিনা ইসলাম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেগুলোই করছিলেন। ভোটার তালিকা অনুযায়ী ব্যালট পেপার মিলিয়ে দেখা হচ্ছিল। কেন্দ্রের ভেতরে কোনো বহিরাগত বা দলীয় আলোচনা ছিল না।
প্রিজাইডিং অফিসারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী তাকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমরা ভোটার তালিকা ও ব্যালট পেপার পরীক্ষা করেছি, অনিয়মের সত্যতা মেলেনি।”
কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস নারায়ণগঞ্জ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপার খোলা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেখানে প্রিজাইডিং অফিসারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রিজাইডিং অফিসার নির্বাচন সরঞ্জাম বুঝে নেওয়ার কাজ করছিলেন। বাইরে থেকে ‘সিল মারা হচ্ছে’—এমন প্রচার সম্পূর্ণ গুজব বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিলেও নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক কাজকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস