ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস
শিরোনাম
  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারিতে আর কত সময় লাগবে যা জানা গেল অধ্যাদেশের দাবিতে ব্লকেড কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের সাত কলেজের অবরোধ কর্মসূচীতে তীব্র যানজট সৃষ্টি, ভোগান্তিতে সাধারণ জনগণ ১১ দলীয় জোটের আসন বণ্টন নিয়ে অগ্রগতি, দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ইঙ্গিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পরিত্যক্ত ব্যাগে মিলল দুই ওয়ান শুটারগান ও গুলি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত  আগামীকাল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজা, চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের পাশেই দাফন নকলের অভিযোগে কুমিল্লার কামিল মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্র স্থগিত ২০ দিনে প্রবাসী আয় ২৬৪৯৮ কোটি টাকা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের
    • রাজনীতি
    • সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই: দীর্ঘ জটিল রোগে ভুগে মারা গেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই: দীর্ঘ জটিল রোগে ভুগে মারা গেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন

    'মুজিববর্ষে বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে'
    বেগম খালেদা জিয়া

    নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

     

    মঙ্গলবার (৩০ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন জটিল অসংখ্য রোগে ভুগছিলেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তার পরিবার ও বিএনপির মিডিয়া সেল। বিএনপির ফেসবুক পেজেও জানানো হয়েছে, “খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।” মৃত্যু্কালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। 

     

     

    সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় ছিল এবং তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। রাতে অবস্থা অবনতির পর বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যগণ হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন—তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, প্রয়াত কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান, দুই মেয়ে জাহিয়া ও জাফিয়া রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, মেজ বোন সেলিনা ইসলাম এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য সদস্যরা।

     

    খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তদারকি করেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড। এই মাসের শুরুতে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

     

    ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বাড়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। আগে ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চোখের জটিলতায় ভুগছিলেন।

     

    ২০২১ সালের মে মাসে নিজের বাসায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়েছিল, যদিও তার হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বহু জটিল রোগের কারণে শারীরিক অবস্থায় উন্নতি আসেনি। তার আগে থেকেই তার হৃদয়ে তিনটি ব্লক, রিং এবং লিভারের চিকিৎসা (পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসিস) করানো হয়েছিল।

     

    বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। ১৯৮১ সালে তার স্বামী হত্যার পর বিএনপির জরুরি নেতৃত্ব সংকটে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে আবারও দায়িত্ব পান।

     

    তার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে স্বৈরশাসক এ.এইচ.এম. এরশাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু করে এবং তিনি “আপসহীন নেত্রী” হিসেবে পরিচিতি পান। ২০১৮ সালে দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডের পর থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে সব দণ্ড থেকে তিনি মুক্ত হয়ে গেছেন।

     

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশ রাজনীতিতে একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসাবে বিভিন্ন মহলে স্মরণ করা হবে। দেশের ইতিহাসে তিনি অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাজনীতিবিদ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

     

     

     

    প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস