শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কনুইমারার কান্ড , বিএনপির ‘কনুই পাওয়ার’ আবার ভাইরাল

প্রতিদিনের ক্যাম্পাস ডেস্ক : দলীয় শৃঙ্খলা ও ভদ্র আচরণের প্রশ্নে নতুন করে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে বিএনপি। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ফের কনুই দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিতর্কিত ভিডিও। এতে দলটির নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে ঘটে সর্বশেষ কনুইকাণ্ডের ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিএনপির একাধিক নেত্রীকে ঠেলাঠেলি করতে এবং কনুই দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত হন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ অন্যান্য নেত্রীরা। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরি মনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, মাজার বেদীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় নেত্রীদের মধ্যে প্রচণ্ড ঠেলাঠেলি শুরু হয়। ভিড়ের চাপে রুহুল কবির রিজভী ও আফরোজা আব্বাস সামনে যেতে পারছিলেন না। এ সময় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ তার ডান পাশে থাকা নিলোফার চৌধুরি মনির বুকে ডান হাতের কনুই দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। কনুইয়ের আঘাতে নিলোফার চৌধুরিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় ভিডিওতে। একই সময় রিজভী আহমেদকে মুচকি হাসতেও দেখা যায়।
এ ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে কনুই দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার একাধিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে এক ব্যক্তিকে কনুই মেরে সামনে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুঃখ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন লেখেন, নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ব্যাপক ভিড় থাকায় প্রোটোকল বজায় রাখতে গিয়ে তাকে কিছুটা কঠোর হতে হয়েছে। তবে এতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত বলেও উল্লেখ করেন।
এছাড়াও গত বছরের ২ নভেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গাড়িতে ওঠার সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সিনিয়র সাংবাদিক ও মনোনয়ন প্রত্যাশী মোদাব্বের হোসেনকে কনুই দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। সেই ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে শুরু হয় সমালোচনা।
বারবার এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। নেটিজেনদের অনেকেই বলছেন, শ্রদ্ধা নিবেদনের মতো পবিত্র কর্মসূচিতেও যদি নেতাকর্মীরা সংযম হারান, তবে তা দলের ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস