উত্তরায় চেতনানাশক প্রয়োগে বৃদ্ধার মৃত্যু: চুরি করে পালানো সেই গৃহকর্মীসহ গ্রেপ্তার ২

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরায় চেতনানাশক প্রয়োগে বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় চুরি করে পালানো সেই গৃহকর্মীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বিলকিছ বেগম (৪০) এবং রবিউল আউয়াল (৫৩)।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শেরে বাংলা নগরে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
তিনি জানান, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন বঙ্গগলির আউটপাড়া এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত বিলকিছ বেগমকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের একটি টিম। পরে তার দেয়া তথ্যে ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণ ক্রয়ের অভিযোগে রবিউল আউয়ালকে গাজীপুরের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার ৭ নং সেক্টরের ১৮ নং রোডের মনোয়ার হোসেনের বাসায় মাসিক পাঁচ হাজার টাকা বেতনে কাজ নেন বিলকিছ বেগম। কিন্তু তখন তিনি বাসার কেয়ারটেকারের কাছে নিজের নাম মমতাজ বলে এবং ওই বাসায় নিজের নাম মারুফা বলে জানায়। তার ঠিকানা ও এনআইডি কার্ড চাইলে, সেগুলোও পরে দিবে বলিয়া জানায়। পরের দিন মনোয়ার হোসেন তার স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে তার বৃদ্ধ বাবা আনোয়ার হোসেন (৬৮) ও মা আয়শা আক্তার (৬২) বাসায় একা ছিলেন। এই সুযোগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিলকিছ তাদের দুইজনকে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে বাসা থেকে ১১ ভরি ১০ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ এক লাখ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়।
ওইদিন সন্ধ্যায় মনোয়ার হোসেনের বড় ভাই মো. জাকারিয়া হোসেন তার বাবাকে ফোন করলে, তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই বাসায় গিয়ে দেখেন তার মা বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে এবং বাবা অসুস্থ হয়ে খাটের ওপর কাতরাচ্ছে। পরে তাদের উত্তরা ১৩নং সেক্টরের লুবানা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক আয়েশাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আনোয়ার হোসেনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় ১৯ ফেব্রুয়ারি নিহতের ছেলে মনোয়ার হোসেন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, অপরাধী কাজের বুয়া ছদ্মনামে মাত্র ২ দিন আগে কাজ নেওয়ায় এবং তার কোন ফোন নাম্বার, ছবি বা সঠিক ঠিকানা না থাকায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন কঠিন ও জটিল হয়ে পড়ে।পিবিআই কাজের মেয়ে কর্তৃক চেতনা নাশক ব্যবহার ও চুরির বিষয়গুলি পিবিআই পর্যালোচনা শুরু করে এবং ঢাকা শহরের একই ধরনের ঘটনা পর্যালোচনা ও আসামীর ছবি সংগ্রহ করা হয়। তখন ভুক্তভোগীর পরিবারকে বিলকিছের ছবি দেখালে তারা তাকে শনাক্ত করেন।
তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত বিলকিছ বেগমের নামে আগেও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। উত্তরার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তিনি দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি চুরি করা স্বর্ণালঙ্কার গ্রেপ্তারকৃত রবিউল আউয়ালের কাছে বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন।
প্রতিদিনের ক্যাম্পাস //এএস